• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন

সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ

রিপোর্টার: / ৩ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট সাময়িক বিপর্যয় পেছনে ফেলে পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ। আকাশপথের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বর্তমানে এয়ারলাইনসটির বিভিন্ন রুটের ফ্লাইটে যাত্রী আসন পূরণের হার ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হামাদ আলী আল-খাতের। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভার ফাঁকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

আল-খাতের জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হামলার পর কাতার নিজস্ব আকাশসীমা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল, যা তাদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। ওই সময়ে পরিস্থিতির কারণে মার্চের শুরু পর্যন্ত চারটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল। তবে বর্তমানে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। যুদ্ধের আগের পূর্ণ সক্ষমতায় এখনো না ফিরলেও যাত্রী চাহিদার দ্রুত বৃদ্ধি আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরোপগামী দীর্ঘপথের ফ্লাইটগুলোতে চাহিদা বেশ ভালো। পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও আফ্রিকা রুটেও যাত্রী পরিবহনের হার বেশ ইতিবাচক ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়েও কাতার এয়ারওয়েজ বিশেষ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতির ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রায় ১৬৬টি গন্তব্যের প্রতিটি বিমানবন্দর থেকে জ্বালানি পরিস্থিতির পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা হয়েছে। আল-খাতের জানান, যেকোনো ঝুঁকি এড়াতে তাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। তবে জ্বালানির বর্ধিত মূল্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে, যার প্রভাব সামাল দিতে প্রয়োজনে টিকিটের দাম সমন্বয় করা হতে পারে। এই অনিশ্চিত সময়েও কর্মীদের চাকরি রক্ষা করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে কাতার এয়ারওয়েজ বড় ধরনের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী তাদের বহরে ২১০টি ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া আগামী অক্টোবর মাস থেকে এয়ারবাসের এ৩২১ লং রেঞ্জ সিরিজের উড়োজাহাজগুলো বহরে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে, যা দীর্ঘপথের ফ্লাইটে বাড়তি দক্ষতা ও সক্ষমতা যোগ করবে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজগুলোতে স্টারলিংক ইন্টারনেট সুবিধা চালুর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কিউ স্যুট কেবিন যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী এই প্রতিকূল সময় কাটিয়ে এয়ারলাইনসটি দ্রুত আগের শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসবে বলে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হামলার পর কাতার নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হওয়ায় যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সেটি আধুনিক ইতিহাসে কাতার এয়ারওয়েজের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাক্ষাৎকারের মাত্র পাঁচ দিন আগে বিভিন্ন রুটে আসন পূরণের হার ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায় বলে জানান আল-খাতের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব উড়োজাহাজ সরু দেহের বিমানের দক্ষতার সঙ্গে দীর্ঘপথে উড্ডয়নের সক্ষমতা দেবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে বহরের বেশিরভাগ উড়োজাহাজে ইতোমধ্যে স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ চালু হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ