
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রুমিন ফারহানাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব স্তরের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও আটজন নেতাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনটি শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।
এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। এর আগে গণমাধ্যমে তিনি বলেন, “যদি দল ব্যবস্থা নেয়, আমি বাধা দেব না। তবে মনোনয়ন না পাওয়া পর্যন্ত আমি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করব।”
দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রুমিন ফারহানার পাশাপাশি বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন—জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন ও আব্দুল খালেক; কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে; ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব; সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জোটগত প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বিএনপির এই পদক্ষেপ কঠোর বার্তা দিচ্ছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানার অংশগ্রহণ সংশ্লিষ্ট আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।