• রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রিমান্ড ও জামিন দুটিই নামঞ্জুর: সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কারাগারে ২৪ ঘণ্টায় হামে ১১ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্তের ঢল—হাসপাতালে হাজারো শিশু ভর্তি, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক, আজ আদালতে তোলা হবে—ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে,,, ঈদযাত্রায় রক্তাক্ত সড়ক—১৫ দিনে প্রাণ গেল ৩৫১ জনের, আহত সহস্রাধিক,, মব কালচার রোধে জিরো টলারেন্স নীতি—অবরোধ ও বিশৃঙ্খলায় কঠোর অবস্থানে সরকার নো কিংস’ স্লোগানে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের সমাবেশ প্রশাসনে বড় রদবদল: ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, সংকট মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজের আহ্বান মন্ত্রীর বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য সুখবর: প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিলের ঘোষণা গ্রামীণ সড়কে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা: দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়নে জোর মন্ত্রীর

জিয়া উদ্যানে চিরনিদ্রায় ‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন দাফন

রিপোর্টার: / ১৪৩ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬

জিয়া উদ্যানে চিরনিদ্রায় ‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক ।

বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ ও প্রভাবশালী অধ্যায়ের অবসান ঘটল। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার পর রাজধানীর জিয়া উদ্যানে, স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

এর আগে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হয় তার নামাজে জানাজা। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজাস্থল ও আশপাশের এলাকা রূপ নেয় শোকের জনসমুদ্রে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ প্রিয় নেত্রীর শেষ বিদায়ে অংশ নেন।

বিকেল তিনটার পর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ঘিরে অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। জানাজার আগে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আমার মা যদি কারও কাছে কোনো ঋণ রেখে গিয়ে থাকেন, অনুগ্রহ করে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমরা তা পরিশোধের ব্যবস্থা করব।” পাশাপাশি তার মায়ের কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করার আবেদন জানান তিনি।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধানসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও জানাজায় অংশ নেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন দলের নেতারা শ্রদ্ধা জানান।

আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাবিক, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুঙ্গেল, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রতিনিধিরা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, চীন, ইরান, কাতারসহ মোট ৩২টি দেশের কূটনীতিক জানাজায় অংশ নেন।

জানাজা শেষে বিকেল চারটার দিকে মরদেহবাহী গাড়ি জিয়া উদ্যানে পৌঁছালে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর পরিবার-পরিজন, দলীয় নেতাকর্মী ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন হয়।

ভোর থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, একজন গৃহবধূ থেকে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ছিল সংগ্রাম, নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তায় ভরপুর। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কারণেই তার বিদায়ে রাজপথে মানুষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

উল্লেখ্য, এই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতেই ১৯৮১ সালের ২ জুন তার স্বামী, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে তাকে চন্দ্রিমা উদ্যানে—বর্তমান জিয়া উদ্যানে—সমাহিত করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ছয়টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক শক্তিশালী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ