
মোতায়েন এক হাজারের বেশি পুলিশ, চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়**
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে জাতির বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমনকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ এলাকা ও আশপাশে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এদিন এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় কার্যকর থাকবে।
পুলিশ সূত্র জানায়, জুমার নামাজ শেষে তারেক রহমান স্মৃতিসৌধে পৌঁছাবেন। কর্মসূচিকে ঘিরে সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, স্মৃতিসৌধে যাওয়ার আগে তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন।
নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম বলেন,
“তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দর্শনার্থী ও আগত নেতাকর্মীসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।”
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। তবে স্মৃতিসৌধ পুরোপুরি বন্ধ রাখার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ কর্তৃপক্ষও বাড়তি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ ও সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার খান আনু বলেন,
“দাপ্তরিকভাবে লিখিত নির্দেশনা না পেলেও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। গ্রাউন্ড, ড্রেন ও লেক পরিষ্কারসহ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।”
এদিকে, সাভার-আশুলিয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন,
“দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। তাকে স্বাগত জানাতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী স্মৃতিসৌধে উপস্থিত থাকবেন।”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি সড়কপথে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত এক সংবর্ধনায় অংশ নেন। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দেশের মানুষের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সব মিলিয়ে, জাতীয় স্মৃতিসৌধে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচি সম্পন্ন করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।