• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুললেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৭২ একর খাসজমি বন্দোবস্তে দায় প্রমাণিত, সাবেক ইউএনও শহিদুল হকের এক বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত কুয়াকাটায় সংবাদকর্মী কে এম বাচ্চুর ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ, ছাত্রদল-যুবদলের কয়েক নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ ৫ আগস্ট উদ্বোধন হচ্ছে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’, গণভবনে সংরক্ষিত থাকবে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা, সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা ধর্মীয় উৎসবের আনন্দে মুখর সাতক্ষীরা, সম্পন্ন হলো শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা কলাপাড়ায় বৃদ্ধকে নির্যাতনের পর মৃত্যুর ঘটনায় মানববন্ধন, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে ফুঁসে উঠল গ্রামবাসী বিদেশি বিনিয়োগে নতুন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর: ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন, সরকার থাকবে পাশে’ প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, উত্তেজনা তুঙ্গে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল, ব্যবস্থা নিতে সিইসিকে চিঠি

ঘুষমুক্ত বাংলাদেশের অঙ্গীকার!,,,,, দৈনিক ক্রাইম বাংলা

রিপোর্টার: / ১৬৭ পঠিত
আপডেট: রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৪

যে মানুষগুলো ছাত্রজীবন থেকে কর্মজীবন, পরিবার-সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছে, অর্থ কিংবা ক্ষমতার দাপটে নিয়ম বদলে ফেলেছে কিংবা যাদের ইশারায় আইন বদলে যেতো- এখন তারা ভীষণ বিপদে! ঘুষ যারা প্রদান করে এবং ঘুষ যারা গ্রহণ করে তাদের সবাই কমবেশি অস্বস্তিকর পরিবেশে হাতড়াচ্ছে! দুর্নীতির যে ব্যাধিতে সমাজ-রাষ্ট্রের গলা অবধি নিমজ্জিত ছিল তা আপাতত বুকের কাছাকাছি নেমেছে। ঘুষ-দুর্নীতি দুনিয়ায় পুরোপুরি বন্ধ হবে না বটে কিন্তু অন্তত হাঁটুর নিচে নামুক- তেমন প্রত্যাশা প্রত্যহ পুষি। অনিয়ম-দুর্নীতি ব্যাধির মত জাতিকে গ্রাস করতে শুরু করেছিল। বিগত কয়েকবছর খুব কমসংখ্যক অফিসে ঘুষের লেনদেন বন্ধ ছিল। সেবা প্রত্যাশী-জনতাও ভেবে নিয়েছিল, সব কাজে উৎকোচ উপহার দিতেই হবে। টাকা ছাড়া যেখানে গাছের পাতাটিও নড়ে না সেখানে ঘুষ ছাড়া ফাইল ছাড় পাবে কীভাবে! বৃদ্ধের পেনশন পাশ হয় না কারণ কাগজ ঠিকঠাক নাই অথচ কাগজের ক’খানা নোট সব ত্রুটি ঠিকঠাক করে ফেলে। বয়স্ক ভাতা থেকে মানুষকে মানবসম্পদ গঠনের টেন্ডার- কোথাও পয়সার চালাচালি বন্ধ ছিলো না। চাকুরি প্রাপ্তি থেকে কবরস্থানে জায়গা পাওয়া- দু’পাইস কামাইয়ের ধান্ধায় একদল সবসময়েই সরব ছিল। তারা এখনও যে হারিয়ে গেছে সেকথা বলছি না তবে আপাতত নিষ্ক্রিয় থেকে পরিস্থিতি অবলোকন করছে। তাদের সময় সান্নিধ্যে এলেই আবার ঝাঁপিয়ে পড়বে। যারা দুই নম্বরিতে অভ্যস্ত তারা ঘুষের দেশে, দুর্নীতির দেশে কিংবা অনিয়মের দেশে সব থেকে ভালো থাকে। কিছু বিনিয়োগ করে যদি বহুকিছু হাসিল করা যায় তবে মন্দ কিসে! ইউনিয়নের ভূমি অফিস থেকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংঘ- সর্বত্রই দুর্নীতি জাল ছড়িয়েছিল। এই জাল গুটানোর দায়িত্ব কাউকে না কাউকে নিতেই হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নির্দলীয় অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের কাছে জনতার প্রত্যাশা অনেক বেশি। তরুণদের বাঁচার মত বাঁচার জন্য একটি ক্ষেত্র এবার তৈরি হবে- আমজনতার আশা। ঘুষ-দুর্নীতি অনিয়ম কেবল অর্থের বিনিময়েই হয় না বরং স্বজনপ্রীতি, সুপারিশের মাধ্যমেও ঘুষের লেনদেনে যা না হয় তার চেয়ে বড় বড় অপরাধ হয়। আরও ভয়ংকর অনিয়ম ঘটে। এইসব অকাজ-কুকাজে যেমন যোগ্য জনতা বঞ্চিত হয় তেমনি রাষ্ট্রও বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যারা ভিন্ন উপায়ে কার্যোদ্ধার করত তাদের এই ট্রানজেকশনাল পিরিয়ডে অনেকেরই মন খারাপ! পাপ বাড়াতে পারছে না! শয়তান বসে থাকতেও দিচ্ছে না! ঘুষখোরদের অনেকেই সাহস করে ঘুষ ধরছে না আবার উৎকোচ দিয়ে যারা কার্য হাসিল করতো তারাও অবৈধ সুবিধা আদায় করতে পারছে না। বিগত দিনগুলোতে যে সকল দপ্তর ঘুষ ও ঘুষখোরের আঁকড়া হিসেবে পরিচিত ছিল সেখানে এখন কাজের গতি খুব কম। সরকারকে সেবার প্রদানের গতি বাড়াতে হবে। লাখ লাখ বেকার ঘুরছে। ঘুষখোর চিহ্নিত করে ছাঁটাই করে বেকারদের বেশি বেশি কাজের সুযোগ দিন। ঘুষমুক্ত বাংলাদেশের অঙ্গীকার পূরণ হবে। দেশের সার্বিক চিত্র বদলে যাবে। সরকারি সুযোগ সুবিধা নিয়ে যারা অনৈতিক বিনিময় ছাড়া কোন কাজ করতো না, পয়সা ছাড়া যাদের টেবিলে ফাইল নড়তো না তাদের অনেক সেক্টরই রাষ্ট্রের কাছে অচেনা নয়। যে অফিসের একজন সামান্য কর্মচারী কোটিপতি, যে অফিসের ড্রাইভার আলিশান বাড়ি-গাড়ির মালিক, মধ্যশ্রেণীর যে কর্মকর্তা চাকুরিতে নবীন হয়েও কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক সেইসব অফিসের শীর্ষস্থানীয়দের সিংহভাগ সাধু- এই কথা শয়তানেও স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বাস করবে না। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সম্পদের বিবরণ জমা হওয়ার সাথে সাথেই আশু তদন্ত/খোঁজ কমিশন গঠন করে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের চিহ্নিত করে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিলে এবং দুর্নীতির মাত্রানুযায়ী দণ্ড দিলো দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য কমে আসবে। দুর্নীতিবাজদেরকে চরমভাবে ঝাঁকুনি দিতে না পারলে এই রাষ্ট্রের সক্ষমতার মেরুদন্ড কখনোই সোজা হবে না এবং সমাজে বৈষম্য ও অনাচার কমবে না। সমাজের মধ্যে যারা অন্যায়কে হালাল ঘোষণা করে অবৈধভাবে সম্পদ গড়েছে, রাষ্ট্রের আমানত তছরুপ করেছে কিংবা আয়বহির্ভূত সম্পদের পাহাড় গড়েছে- তাদের মুখগুলো প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন। মিডিয়ায় এনে দেশবাসীকে চাঁদমুখগুলো দেখানো দরকার। যাতে ঘৃণা করতে, থুতু দিতে এবং বয়কট করতে সহজ হয়। যারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত তাদের দ্বারা কৃত ৫০% দুর্নীতি অনিয়ম বন্ধ করা গেলে বেসরকারি সেক্টরের ৯৯% দুর্নীতি বন্ধ হবে। রাষ্ট্র একবার চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেখুক। এটা ঘটবেই। দায়িত্ববানদের অবহেলাতেই তড়তড় করে অনিয়ম বেড়ে চলেছে। অবহেলা দুইভাবে হতে পারে। প্রথমত: যাদের নজরদারির দায়িত্ব তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে না। দ্বিতীয়ত: অনিয়ম কোথায় কোথায় হচ্ছে- সেটা জানা কর্তারা অর্থের বিনিময়ে অবৈধকে বৈধতা দান করছে। ঘুষ ছাড়া সরকারি দফতরে কাজ হয় না, সেবা ও সাক্ষাৎ মেলে না- সমাজে এই সত্য প্রচারিত হতে যে সকল সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে কঠোরতর শাস্তি নিশ্চিত করত হবে। এজন্য সংবিধানের ৭৭নং অনুচ্ছেদ তথা ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং সৎ, নিষ্ঠাবান ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাময়িক সময়ের জন্য পৃথক পৃথক দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা যেতে পারে। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে জনবল বাড়াতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন-ছাত্র-শিক্ষক ও সুশীল সমাজের সমন্বয়ে অফিসে ঘুষ-দুর্নীতি মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। গ্রহণযোগ্য আলেমদেরকে সংশ্লিষ্ট করে সেমিনারের আয়োজন করা যেতে পারে। অন্তত দুঃখজনক যে, বিভিন্ন অফিসে পরিচালিত মিনিস্ট্রি অডিট ও ইন্টারনাল অডিটের বিরুদ্ধেও সীমাহীন অভিযোগ আছে। অর্থের লেনদেনে সেখানে অনেক জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষতি চাপা পড়ে যায়। যারা পাহারাদার তারাও যদি ডাকাতিতে লিপ্ত হয় তবে সে জাতির মুক্তি অসম্ভব। দুর্নীতি প্রমাণিত হলে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী যাতে পেনশন নিয়ে যেতে না পারে সেটার ব্যবস্থা করুন। দুর্নীতির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন সংস্কার করাও জরুরি। ইসলামে চুরির জন্য হাত কর্তনের নিয়ম, ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতাকে জাহান্নামের দুঃসংবাদ শোনানোর গুপ্ত বার্তাটিও রাষ্ট্রকে অনুধাবন করতে হবে। এই রাষ্ট্রে যত ধরনের সমস্যা সেসবের সিংহভাগ সমাধান হবে- দুর্নীতিবিরোধী কমিশন ও সেল গঠন করার মাধ্যমে। অতীতের দীর্ঘ সময় ঘুষ-দুর্নীতি বেতন-ভাতার মত অর্থ সংস্থানের স্বাভাবিক উৎস হওয়ায় অবৈধ ইনকামে মানুষের অপরাধবোধও লোপ পেয়েছে। ঘুষখোরদের লজ্জা হারিয়েছে সে দীর্ঘকাল! জাতিবিনাশী এই ট্রেন্ড বন্ধ করতে হবে। ঘুষ বন্ধের বিষয়ে কমিশন করে খোঁজখবর নিতে হবে- বৈধ আয়ের সাথে ব্যক্তির ব্যয় সামঞ্জস্য কি-না? নবম পে-কমিশন গঠনের মাধ্যমে পে-স্কেল দিতে হবে। কেননা বাজারদর, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে বেতন তাল মেলাতে পারছে না। তবে শুধু বেতন বৃদ্ধিই দুর্নীতি-ঘুষ বন্ধের একমাত্র প্রতিষেধক নয়। যাদের রক্তে দুর্নীতি মিশে গেছে, যাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অবৈধ আয়ের স্বপ্ন প্রবাহিত হচ্ছে তাদের আইনের মুখোমুখি করতে হবে। শুধু মৌখিক ঘোষণায়, কাগজ-কলমে, বিজ্ঞাপন-প্রজ্ঞাপনে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ হবে না। প্রত্যেক জেলায়, প্রত্যেক দফতরে, প্রত্যেক মন্ত্রণালয় প্রতিবছর দৈবচয়নের ভিত্তিতে কতিপয় কর্মকর্তার আয়কর বিবরণীর সাথে তার উৎসের সম্পত্তি মিলছে কিনা সেটা তদন্ত করে দেখতে হবে। অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের নির্দেশিত সম্পদ বিবরণী দাখিলের পরে এই উদ্যোগ শুরু হলে দেশ থেকে দুর্নীতির সিংহভাগ দূর হবে। সে অফিসের পিয়ন চাপরাশির জন্য অনৈতিক কাজে জড়ানো কঠিন যে দফতরের কর্মকর্তা পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ ঘুষ-দুর্নীতি দতে সংশ্লিষ্টতা কিংবা সমর্থন না থাকে। কেউ ঘুষ খাচ্ছে দেখে আমিও ঘুষ খাবো বা খাই- এটা কোন মানুষের উত্তর হতে পারে না। বাজারের ব্যয় থেকে ১০/২০ টাকা জমিয়ে কোটি টাকার মালিক হতে হাজার দেড়েক বছর লাগে! কাজেই এইসব আবেগীয় গল্প বিশ্বাস করার মানসিকতায় তরুণ-যুবকরা নাই। প্রত্যেক অফিসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সৎ কর্মরতা-কর্মচারী আছে। কে কী পরিমাণ সম্পদ অবৈধ আয়ে অর্জন করেছে তা প্রতিবেশি-পরিজন জানে। কোন অ্যাপস তৈরি করে, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে কিংবা টোল ফ্রি নম্বর চালু করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য নিন। সহকর্মীদের থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য সেল তৈরি করুন। কোটি টাকামূল্যের অধিক অর্থ/সম্পদ যারা অবৈধভাবে অর্জন করেছে কেবল তাদের তথ্য নিলেও হাজার হাজার ঘুষখোরের খোঁজ মিলবে। যদি কেউ ভুল কিংবা ভুয়া তথ্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার উদ্দেশ্য তদন্তকারীদেরকে ভোগায় তবে তাদের জন্য দণ্ডের বিধান রেখে আইন পাশ করুন। ঘুষ-দুর্নীতি দমনের জন্য এক টায়ারের নজরদারি দ্বারা হবে না । সারাদেশের সব বিষয়ে সংস্কার করতে সহস্র বছর লাগবে! রাজনৈতিক দলগুলো সেই অবকাশ অন্তবর্তীকালীন সরকারকে দেবে বলে তাদের ভাব-ভঙ্গিমায় মনে হচ্ছে না। ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতিতে ক্ষমতাতে যাওয়া ও থাকাই মুখ্য। তখন রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতি ভুলে যায় এবং কখনো কখনো তারাও বিপথগামীতার পথে পা বাড়ায়! কাজেই বর্তমান সরকারকে অগ্রাধিকারমূলক ভিত্তিতে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপ রেখে যেতে হবে যাতে এদেশের সব মানুষের মঙ্গল হয়। দেউলিয়াত্বের পরে বদলে যাওয়া শ্রীলঙ্কার দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে জাজ্বল্যমান। কেবল দুর্নীতি বন্ধ করে দেশটি আবার নতুন করে মেরুদণ্ডে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরাও মানুষদের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন করতে পারবো না তবে ঘুষের লাগাম টানতে পারলে দেশটা আমূল বদলে যাবে। ঘুষ-দুর্নীতিতে যারা ডুবে থাকতো, একটাকার খরচে যারা রাষ্ট্রীয় তিনটাকা লুটপাট করেছে, বদলি ও পদায়ন ভিত্তিক সিন্ডিকেটের বাণিজ্য থেকে শুরু করে টেন্ডার বাণিজ্য লুটপাটে যারা নিয়মিত গ্রাহক তারা বেশ কিছুদিন ধরে ভালো নাই। যারা টাকা নিয়ে চাকুরি দিতে পারতো, অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সুপারিশ করতো তাদের এই ভালো না থাকাটা যাতে দীর্ঘস্থায়ী হয় সেই ব্যবস্থা রাষ্ট্র স্থায়ীভাবে করুক। অর্থপাচারকারীদের স্বপ্নভূমির তকমাতে বাংলাদেশের নাম না থাক। সুন্দর সিস্টেম প্রবর্তন ছাড়া বোধকরি ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। নতুন সরকারের প্রারম্ভিক সময়েই বিমানবন্দরে যাত্রী সেবার মানে আমূল পরিবর্তন হয়েছে, থানাগুলোতে পরিবর্তনের কিছুটা সুবাতাস বইছে। একজন বিসিএস শিক্ষা কর্মকর্তা আলাপকালে বললেন, চাকুরিতে যোগদানের দীর্ঘ বছরেও কোনোদিন পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের কাগজ সত্যায়িত (‘সত্যায়িত’- এটা ভালো সিস্টেম কিনা সেটা নিয়েও ভাবা যেতে পারে) করাতে কেউ আসেনি অথচ গত তিনমাসের অফিসের দিনগুলোতে এই জাতীয় কাগজ সত্যায়িত করতে করতে হাত ব্যথা হয়ে যাচ্ছে। কাজেই বোঝা যায়, পরিবর্তন ঘটছে, ধীরে হলেও আসছে। প্রশাসনের স্বচ্ছতাও অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। অন্তবর্তীকালীন সরকারের গত তিন মাসের মেয়াদকে এককথায় যদি মূল্যায়ন করতে চাই তবে বলতে হববে, তারা ঘুষের লেনদেন কমাতে সক্ষম হয়েছে। কাজেই ঘুষেই যাদের জীবন-মরণ তাদের কিছুটা মন খারাপ থাকবে- সেটাই তো স্বাভাবিক। নতুন প্রজন্ম যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে সেই বাংলাদেশের চিত্র হবে ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন সোনার বাংলাদেশ। যেখানে রাজনীতিকে ব্যবসায়ের হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ