Array

জামায়াত–এনসিপি জোটের গুঞ্জন, আসন সমঝোতা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়
নিজস্ব প্রতিবেদক ।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতা হচ্ছে—এমন দাবিকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদেরের এক ফেসবুক পোস্টের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে দেওয়া এক পোস্টে আবদুল কাদের দাবি করেন, সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যকার জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। পোস্টে তিনি লেখেন, “তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে। এনসিপি অবশেষে জামায়াতের সাথেই সরাসরি জোট বাঁধতেছে।”
এই পোস্টের পর এনসিপির অবস্থান জানতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে প্রথমদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।
আবদুল কাদেরের দাবি অনুযায়ী, শুরুতে এনসিপি জামায়াতের কাছে ৫০টি আসন দাবি করলেও আলোচনার মাধ্যমে তা কমে ৩০ আসনে নেমে আসে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতার আওতায় এনসিপি বাকি প্রায় ২৭০টি আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না এবং সেসব আসনে জামায়াতকে সমর্থন জানাবে। তিনি আরও দাবি করেন, “এর মধ্য দিয়ে কার্যত এনসিপি জামায়াতের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”
যদিও আবদুল কাদের বর্তমানে এনসিপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত নন, তবে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তাঁর সহযোদ্ধারাই দলটি গড়ে তোলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এনসিপির বর্তমান শীর্ষ নেতারাও তাঁর সঙ্গে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি এনসিপি-সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রার্থী ছিলেন।
এদিকে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে স্বীকার করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “এনসিপির সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা চলছে।” তবে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।
রাজনৈতিক সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র জমার সময় ঘনিয়ে আসায় বিভিন্ন দলের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে তৎপরতা বেড়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বাসায় যান। আনুষ্ঠানিকভাবে অসুস্থতা জানতে যাওয়ার কথা বলা হলেও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে আসন সমঝোতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
আবদুল কাদের আরও দাবি করেন, সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় ৩০টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন জামায়াতের পক্ষে ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং এনসিপির পক্ষে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এমনকি নির্বাচনে জয়ী হলে নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী এবং পরাজিত হলে বিরোধী দলীয় নেতা হওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এনসিপি ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে ইতোমধ্যে শতাধিক আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলটি এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট গঠন করলেও অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে।
এনসিপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য এই জোটের খবর সামনে আসতেই তরুণ রাজনীতিক ও আন্দোলন সংশ্লিষ্ট অনেকের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।